লাস্ট ড্যান্স VS ফাস্ট ড্যান্স

 

সারা দুনিয়া যখন মেসি, রোনাল্ডো, নেইমারদের শেষ বিশ্বকাপ নিয়ে "লাস্ট ড্যান্স" হেডিং দিয়ে বড় বড় উপন্যাস নামাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোষ্ট হচ্ছে চক চকে পোষ্টার। কখনও মেসির হ্যাট্রিক নিয়ে হৈ হৈ পড়ে যাচ্ছে। কখনও চুল চেরা বিশ্লেষক গন পেনাল্টির আবেদন করছে ফেসবুকে। আবার কখনও সমালোচনায় ক্রিস্টিয়ানো। ওদিকে আওয়াজ উঠছে  নেইমার মাঠে নেই কেন? ভক্ত কূলের এলোপাথারি টাইপিংয়ে আর এআই জেনারেটেড ছবিতে ছেয়ে যাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ার আকাশ। কারন পরের বিশ্বকাপে আর দেখা যাবে না তাদের প্রিয় প্লেয়ারদের। খেলার মাঠ থেকে ইতিহাসে বিলিন হয়ে যাবে আজকের এই তাড়কারা। তাই বিশ্বকাপের মঞ্চে শেষ বারের মত নিজের প্রিয় খেলোয়াড়ের হয়ে গলা ফাটানোয় কোনো গাফিলতি করছে না ফুটবল ভক্তরা। আর ঠিক সেই সময়ই বিশ্ব ফুটবল জগতে ঘটে চলেছে কিছু নাটকীয় ঘটনা।

বিশ্বকাপে ইতিহাসে আজ পর্যন্ত সব থেকে ছোট দেশ মাত্র দু লক্ষেরও কম জনসংখ্যার একটি দ্বীপ প্রথমবার বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে চার বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানির বিরুদ্ধে গোল রেছে ইকুয়েডরকে (0-0) থামিয়ে দিয়েছে পৃথিবী দেখলো তাদের লড়াই, বিশ্ববাসীর কাছে পরিচিতি পেল একটা নতুন দেশ "কিউরেসাও"

আবার, প্রায় লক্ষেরও কম জনসংখ্যার দেশ তাদের ফাস্ট এভার ওয়ার্ল্ডকাপে প্রথমে স্পেন (-) তারপর উরুগুয়ের (-) বিরুদ্ধে খেলার ভাষায় ড্র করেছে, কিন্তু এটাকে ড্র বললে কম বলা হবে। ফুটবলে সারা বিশ্ব দাপিয়ে বেড়ানো দুটো শক্তিশালী দলকে জাস্ট রুখে দিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের পাতায় নিজেদের ছোট্ট দেশের নাম মোটা কালি দিয়ে লেখালো "কেপ ভার্দে।"

এদিকে, কিউই দের হারিয়ে মিশরীয় সভ্যতার বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম জয়ের পিরামিড তৈরি করলো ইজিপ্ট। মিম মেকার ব্ল্যাক ক্যাপ্স ফ্যানেরা "ক্রিকেটে আসিস" বলে দু চারটে মিম বানাতেই পারে কিন্তু সেই মিমের মমি বানিয়ে আপাতত ছন্দেই আছে হায়রোগ্লিফের দেশ।

হয়তো এরা পরের রাউন্ডে কোয়ালিফাই নাও করতে পারে কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমি ফাইনালে নাও যেতে পারে কিন্তু ইন্টারনেটে, গুগলের ডেটাবেসে, চায়ের দোকানে, সেলুনে, কফির মাগে, চায়ের কাপে, তর্কে বিতর্কে, আড্ডা, আলোচনায় ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি, স্পেনের মত বড় বড় বিশ্বকাপ বিজয়ী দেশের সাথে এই সব ছোট ছোট দেশের নামও থাকবে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে লেখা হবে তাদের লড়াইয়ের কথা। তোলা থাকবে তাদের সেলিব্রেশনের ছবি, যে ছবিতে ফুটে উঠবে তাদের বিশ্ব জয়ের স্বপ্ন। যে বিশ্ব জয়ের যুদ্ধ হবে মাঠে, সে যুদ্ধে বন্দুক নয় হাতিয়ার হবে ফুটবল। ধ্বংস হবে না শহর,গ্রাম,দেশ, মরবে না মানুষ তৈরি হবে গল্প। এটাই ইতিহাস হওয়ার ফুটবল, এটাই ইতিহাস তৈরির বিশ্বকাপ

Post a Comment

0 Comments